Sunday, May 29, 2022
Homeফেসবুক স্টাটাসএকটা মেয়ের পতিতা হয়ে ওঠার ফেসবুক স্টাটাস

একটা মেয়ের পতিতা হয়ে ওঠার ফেসবুক স্টাটাস

হাতে একটা জ্বলন্ত সিগারেট, কেবলই একটা
টান দিয়ে হাত নিচু করলাম। নাক আর মুখ
দিয়ে ইটের ভাটার মতো ধোঁয়া বের হচ্ছে
তার সাথে আমিও রেলগাড়ির মতো না থেমে
হেটে চলছি সামনের দিকে। রাত অনেক হয়েছে, প্রায় পৌনে এগারটা বাজে। গাড়ি চলাচল কমে গেছে তবে মোটামুটি এখনো রাস্তা দিয়ে ভালই চলছে কারণ সামনেই বাসস্ট্যান্ড। আর বাসস্ট্যান্ড থেকে ১৫ মিনিট হেটে সামনের দিকে গেলেই আমার বাড়ি।

একটি মেয়ের পতিতা হয়ে ওঠার ফেসবুক স্টাটাস

অতঃপর হাটতে হাটতে বাসস্ট্যান্ডে এসে পরলাম। সিগারেটটা আর নেই, শেষ হয়ে গেছে। আগুনটা নিভে গেছে স্টান্ডে আসার দু মিনিট আগে, তাই হাত থেকে তুড়ি মেরে ওটা এক সাইডে ছুড়ে মারলাম। আর আমি স্টান্ডে রাখা এক ব্রেঞ্চে বসে পরলাম। তারপর সিগারেটটা কই গেল জানি না কিন্তু একটু পরই শার্ট-প্যান্ট পড়া একটা মেয়ে আমার সামনে এসে দাড়ালো আর ওর হাতে আমার ফেলে দেওয়া সিগারেট। মেয়েটা তো দেখতে খারাপ না অনেক সুন্দর মায়া ভরা চেহারা।
– ইয়ে আপু স্যরি, বুঝতে পারিনি ওটা আপনার
কাছে যাবে।
– এতো রাতে এখানে একা বসে আছেন কেন ? ওহ্
বুঝতে পারছি আপনি কি খুঁজছেন! তো কত
দিবেন? ( ফিসফিস করে) আমার আর বোঝার বাকি রইলো না ইনি কে? আর কি চায়! আর এই স্টান্ডে রাতের বেলা পতিতা ঘুরে বেড়াবে এটা নতুন কিছু না, খুব স্বাভাবিক একটা বিষয়।
– ৫০০ টাকা দিব, ওনলি কিছু সময়ের জন্য চলবে?
– আচ্ছা চলবে। কই যেতে হবে এখন?
– আমার পিছু পিছু চলেন।

তো মেয়েটাকে সাথে নিয়ে সামনের দিকে এগুতে লাগলাম। আমি মাথা উচুঁ করে হাটছি আর মেয়েটা মাথা নিচু করে চুপচাপ হাটছে। কিছুদূর যাওয়ার পর রাস্তার একপাশে থামলাম। জায়গাটা একটু অন্ধকার বেশি তবুও ঘাসের উপর ধপাস করে বসে পরলাম।
– এইযে তোমার নাম কি?
– মোনালিসা। – বসো এখানে।
– এ মা রাস্তার পাশে এসব করা কি ঠিক হবে?
তারচেয়ে আমরা অন্য কোনো জায়গায় যাই।
– তোমাদের তো লজ্জা সরম নেই, তো এখন
এখানে সরম পাওয়ার মানে কি?
– না মানে! ঠিক আছে, সমস্যা নাই। – এই নাও তোমার পাঁচশো টাকা।
– হুম, এখন যা করার করুন।
– হাহাহা আমি তোমাকে এখানে পাঁচশো টাকা
দিয়ে তোমার দেহের স্বাদ পাওয়ার জন্য আনিনি।
– তাইলে? – কয় বছর ধরে এ রাস্তা ধরেছো?
– ২ বছর।
– কেন এসব করছো? আর বাসায় কে আছে?
– বৃদ্ধ মা আছে আর বাবা ২ বছর আগে হার্ট এ্যাটাকে মারা গেছে।
– চাকরি করলে না কেন? এসব শুরু করেছো কেন?
– ধ্যাত্, কি সব আজাইড়া কথা বলছেন! যা করার তাড়াতাড়ি করুন তো।
– আমি যা বলি তার উওর দাও আর না হয় টাকা
ফেরত দাও।
– আচ্ছা বলুন, – এ পথ ধরেছো কেন? মূল কারণ কি?
– শুনবেন?
– বলো –

৩ বছর আগে,,
ডিগ্রী তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা দিয়ে চতুর্থ বর্ষে উঠেছে মোনালিসা আর ছোট্ট করে ওর নাম হলো মোনা । ৩ বছর ধরে এ কলেজে আছে তাই কলেজের সবকিছু আনাগোনা ওর জানা।

তাই আজ কলেজে এসেই মোনা একটু ছোটাছুটি
করছে কারণটা হলো ও ওই হ্যাবলাটাকে খুজেঁ
পাচ্ছে না। হ্যাবলাটার নাম হলো নীল, মোনার বয়ফ্রেন্ড।

মোনা আজ জেদ ধরে বসেছে নীলকে আজ ও
লিপকিস করবেই। কিছুতেই লিপকিস না করে
ওকে ছাড়বে না। বড্ড রেগে আছে মোনা
নীলের প্রতি, কারণ ওদের রিলেশনের আজ ১ বছর পূর্ণ হয়েছে কিন্তু আজ পর্যন্ত মোনা ওকে
একটা লিপকিস করতে পারেনি। নীল ছেলে
মানুষ, নীলই তো আগে থেকে চাইবে এসব,
মোনার অনেক কাছে যেতে, ওর ঠোঁটে নিজের
ঠোঁট রাখতে কিন্তু নীল তার উল্টো। ও শুধু চায়
মোনার হাত ধরে পথ চলতে, ঠোঁটে ঠোঁট রাখতে না। কিন্তু মোনা শুধু হাতে হাত রেখে চলতে
চায় না, ও আরো বেশি কিছু চায়, যেটা দুজনকে
অনেক গভীরে নিয়ে প্রেমের তৃপ্তি দান
করবে।

অবশেষে দৌড়াতে দৌড়াতে দেখে কলেজের সামনে মাঠের পাশে নারকেল গাছটার নিচে
নীল উল্টো দিকে মুখ করে বসে বসে বই পড়ছে ,
অতঃপর মোনা পেছন দিক দিয়ে গিয়ে নীলের
গালে একটা আলতো করে চুমু দেয়, আর ওমনি
হকচকিয়ে উঠে নীল।
– এই এটা কি হলো? – কেবল তো গালে দিছি এরপর ঠোঁটে দিব।
– উফফফ মোনা তুমি কেন বুঝতে চাইছো না বলতো! এইসব লিপকিস চুমু আমার পছন্দ না। যা
হওয়ার বিয়ের পর হবে এখন বাদ দাও তো এসব।
– শালা আনরোমান্টিক, খ্যাত। তোর সাথে আমার রিলেশন করাই ভুল হইছে।
– কেন?
– আবার প্রশ্ন করে! বুঝতে পারছিস না কেন?
– আমি লুচ্চামি করতে পারিনা তাই তো?
– ইইইইই কুত্তা তোকে আমি!! যা ভাগ তোর সাথে আমি আর রিলেশন রাখতে চাই না। – ভালো তো, যাকে ভালো লাগে তার সাথে রিলেশন করো, আমিও আর তোমার মতো চরিত্রহীন মেয়ের সাথে রিলেশন রাখতে চাই না।
– আমি চরিত্রহীন?
– মোনা তোমার সাথে এখন ঝগড়া করা বোকামি, যাও এখান থেকে। রিলেশন রাখা না রাখা সব তোমার ইচ্ছা।
– রাখবো না,
– না রাখলা, যাও এখন! আমাকে পড়তে দাও তো।
তারপর রাগে গড়গড় করতে করতে ওখান থেকে
চলে যায় মোনালিসা। আর ব্রেটআপটা হয়েই
গেল, দুজনের মতামতেই ব্রেকআপ হলো তাই
কারো কোনো আফসোস নেই। এটা যদি সত্যি
সত্যি ভালবাসা থাকতো তাহলে হয়তো এতটা
ঠুনকো হতো না। এতো সহজে ব্রেকআপ হতো না, সারাজীবন দুজন দুজনের পাশে থাকতো।

তিনমাস পর, মোনা আজ পার্কে বসে আছে এক ছেলের সাথে। ছেলেটা ওর সাথে পড়ে না বা এ এলাকার না, কোনো এক কাকতালীয় ভাবে ওদের দেখা হয়েছিল, ছেলেটার বাসা পাশের এলাকায়।
আর ও শুধু একটা ছেলে না ও হলো মোনার নতুন
বয়ফ্রেন্ড। ওদের রিলেশন হলো কেবল ১৫ দিন।

নীলের মতো আর এ ছেলের পেছনে মোনার দৌড়াতে হয় না কারণ এ ছেলে নিজে থেকেই
মোনার খুব কাছে আসার চেষ্টা করে। মোনা
যা নীলের কাছে চাইতো এই ছেলেটা ওকে
সেটাই দেয়, তাছাড়া আর কি করবে ছেলেটার সাথে রিলেশন হওয়ার ৩ মাস ১৬ দিন পর। দুজনে একসাথে হাটছে।
– মোনা
– বলো
– একটা কথা বলবো রাগ করবে না তো?
– না, বলো!
– প্রমিজ? – প্রমিজ।
– আমি তোমাকে আরো কাছে থেকে চাই।
– মানে!
– চল না দুজন একদিন এক ফ্লাটে যাই।
– না, এ হয় না।
– কেন হয় না? – আগে বিয়ে তারপর,
– প্লিজ মোনা।

মোনা ছেলেটার কথায় সরাসরি না বলে দেয়
কিন্তু ছেলেটা দমেনি, প্রতিদিন মোনাকে এই
কথা বলতো কিন্তু মোনা কিছু বলে না। মা বাবার একমাত্র মেয়ে এখন যদি এসব করে তারপর যদি এসব বাইরে জানাজানি হয় তাহলে কি হবে?

কিন্তু কয়েক দিন পর থেকে ছেলেটা মোনাকে
ইগনোর করতে থাকে আর মোনা এটা খুব শিঘ্রই
বুঝতে পারে। অবশেষে এতো জোরাজুরিতে আর না করতে পারেনি মোনা, নিজে থেকেই রাজি হয়ে যায়।

অতঃপর নির্দিষ্ট একটা দিনে এক ফ্লাটে চলে
ওদের প্রেম লীলা। তার কয়েক দিন পর, রাতের বেলা মোনা ফেসবুকে লগইন করে তারপর নোটিফিকেশন চেক করতেই দেখতে পায় ৭ ঘণ্টা আগে সেই ছেলেটা ওকে আর কিছু বন্ধুকে ট্যাগ দিয়ে একটা ভিডিও আপলোড করেছে।

আর যখনই মোনা ভিডিওটা দেখতে পায় আর তখনই ও সাথে সাথে জ্ঞান হারায়, এ
ভিডিওটা অন্য কারো ভিডিও নয়, এটা ওদের
দুজনের ভিডিও, সেদিন ওরা দুজন ফ্লাটে যা
যা করেছে সব ভিডিও করা আছে এখানে । এখন
তো ছেলেটাকে খুন করলেও যা হয়েছে তা আর
ফিরে আসবে না। যা হওয়ার তাই হলো! .
এরপর থেকে পাশের সব মানুষ মোনা আর ওর
পরিবারকে ধিক্কার করতে থাকে। এসব সয্য
করতে না পেরে মোনার বাবা হার্টএ্যাটাক
করে অকালে প্রাণ হারায়। অতঃপর পরিবারের আয়ের উৎস বলতে আর কিছুই থাকে না তাই মোনাকেই রাস্তায় নামতে হয় টাকা উপার্জনের জন্য। মোনার মা তখন খুব অসহায় হয়ে যায়, বাবা নেই পাশে আর মোনা মার পাশে থেকেও নেই। মোনা তো সবার ঘৃণার পাত্রী, কিচ্ছু নেই মোনার সব শেষ হয়ে গেছে।
সেদিনই মরে যেতো মোনা যেদিন বাবা চলে
যায়, ওর সেদিনই ইচ্ছে করছিল তখনই ফাসিঁ
দিবে ঘরে গিয়ে কিন্তু মোনা চলে গেলে ওর
মার কি হবে? তিনি বাঁচবে কি করে? মার
কথা ভেবে সবার অবহেলিত হয়েও সমাজের কোনো এক কোণে পরে থাকলো মোনা এক বেহায়া মেয়ে হয়ে।

ও অনেক জায়গায় চাকরি খুজেঁছে কিন্তু লাভ
হয়নি, যেখানেই চাকরির জন্য গিয়েছে সেখানেই ওরা বলেছে – পতিতা হয়ে চাকরির দরকার কি? কারও সাথে শুয়ে পরলেই তো অনেক টাকা পাবেন। রাস্তায় হাঁটার সময় অনেকেই বলেছে,
– যাবেন নাকি আফা? টাকা দিয়ে ভরিয়ে দিব। সব জায়গায়ই মানুষ মোনার সাথে এমন করতো। হয়তো ভিডিওটা অনেক জায়গায় ছড়িয়ে
গিয়েছিল তাই মানুষ এখন মোনাকে এক ভাবে
চিনে। তারপর থেকে শুধু মাকে একটু ভালো রাখার জন্য এই কাজ করে ও, মা এখনো জানে না মোনা কি কাজ করে! মা শুধু এটা জানে যে, তার মেয়ে রাতে নাইট ডিউটি করে।
.
দিনের বেলা ঘরের ভেতর লজ্জা সরমের হাত
থেকে বাঁচার জন্য ঘরের ভেতর দরজা জানালা
বন্ধ করে চুপ করে বসে থাকে অন্যথায় শুয়ে
থাকে আর রাত হলেই ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে খদ্দের খুজতে, যে মোনার দেহ ভোগ করবে আর
টাকা দিবে তারপর সেই টাকা দিয়ে মা
মেয়ে দুজন চলবে। এছাড়া মোনার কাছে আর
কোনো রাস্তা নেই।
.
– শুনলেন তো আমার গল্প। এবার আমার দেহটাকে নিয়ে যা খুশি করুন সমস্যা নাই।
– আমি ওরকম ছেলে না, তুমি চলে যাও।
– ওহ্ আচ্ছা। এই নিন আপনার পাঁচশো টাকা।
– দরকার নাই ওটার, ওটা তুমি নিয়ে যাও,
তোমার মাকে ফল কিনে দিও।
– ধন্যবাদ ভাইয়া। .
অতঃপর মেয়েটা চলে গেল রাস্তা ধরে স্টান্ডের দিকে। হয়তো আবার কোনো নতুন খদ্দের খুজবে আর না হয় বাড়ি চলে যাবে। দেখলেন তো মেয়েটার এ অবস্থা হওয়ার কাহিনী। এমন হওয়ার জন্য মেয়েটা নিজেই দায়ী। একটু বেশি ভালবাসা পাওয়ার জন্য মেয়েটা আজ সর্বস্ব হারালো। ভালবাসা বেশি হলে যা হয় আর কি! যে ছেলেটার কাছে সত্যি ভালবাসা পেতো তাকে ছেড়ে দিয়ে ভুল মানুষের কাছে গেছে আর তার ফল স্বরুপ আজ মোনা পেয়েছে একজন পতিতার পরিচয়।

তো আপুরা আশা করি আপনারা কেউ মোনার মতো এমন কিছু করবেন যে বেশি ভালবাসা পাওয়ার জন্য সবকিছু হারাতে হয়, আপনার একটা ছোট্ট ভুল বা স্বিদ্ধান্তের জন্য আপনার বা আপনার পরিবারের পুরো ক্যারিয়ারটা নষ্ট হয়ে
যেতে পারে।

Shafiqul Islam
Shafiqul Islamhttps://www.uipoka.com
মানুষ সব সময়েই ছাত্র, মাস্টার বলে কিছু নেই। এটা যে বুঝবে – সে সব সময়ে সামনে এগিয়ে যাবে
RELATED ARTICLES

Most Popular

Related articles