Saturday, May 28, 2022
Homeভেষজ উদ্ভিদজেনে নিন মিষ্টি কুমড়ার ভেষজ গুন ও উপকারিতা সম্পর্কে

জেনে নিন মিষ্টি কুমড়ার ভেষজ গুন ও উপকারিতা সম্পর্কে

মিষ্টি কুমড়ার পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা প্রচুর। মিষ্টি কুমড়া খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি পুষ্টিগুণে ভরপুর। মিষ্টি কুমড়া আমাদের সকলের অতি পরিচিত বারোমাসি সবজি । খুবই পুষ্টিদায়ক, হালকা মিষ্টি স্বাদের এই সবজিটি পাওয়া যায় সারা বছর জুড়ে।মিষ্টি কুমড়ায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ (বিটা ক্যারোটিন), ভিটামিন সি, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স,এবং ভিটামিন ই, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, কপার, ফসফরাস,ক্যারটিনয়েড এবং বিভিন্ ধরণের অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস। নিয়মিত মিষ্টি কুমড়া খেলে আমাদের বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।মিষ্টি কুমড়া তরকারি ভাজি,ছাড়াও ভর্তা করে খাওয়ারও প্রচলন রয়েছে। এই সবজির ইংরেজি নাম Sweet gourd বা Pumpkin, বৈজ্ঞানিক নাম Cucurbita Maxima।

মিষ্টি কুমড়ার ভেষজ গুন ও উপকারিতা

মিষ্টি কুমড়ার পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন।

মিষ্টি কুমড়ার পুষ্টিগুণঃ

মিষ্টি কুমড়া খেতে সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ায় এর চাহিদা প্রচুর। এই সবজিটি আমাদের দেহের প্রয়োজনীয় ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করে। শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত মিষ্টি কুমড়া খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

প্রতি ১০০ গ্রাম মিষ্টি কুমড়ার মধ্যে রয়েছে –
উপাদান পরিমাণ
খাদ্যশক্তি ২৬ কিলোক্যালরি
শর্করা- ৫ গ্রাম
আমিষ- ১ গ্রাম
ফাইবার- ০.৫ গ্রাম
চর্বি- ০.১ গ্রাম
ভিটামিন সি- ৯ মিলিগ্রাম
ভিটামিন এ- ৭২০০ মাইক্রোগ্রাম
পটাশিয়াম- ৩৪০ মিলিগ্রাম
সোডিয়াম- ১ মিলিগ্রাম
ক্যালসিয়াম- ২৪ মিলিগ্রাম
কোলেস্টেরল- ০ মিলিগ্রাম
জিংক ০.৩ মিলিগ্রাম
লৌহ- ০.৮ মিলিগ্রাম
ফসফরাস- ৪৪ মিলিগ্রাম

মিষ্টি কুমড়ার উপকারিতা

মিষ্টি কুমড়ার উপকারিতা প্রচুর। মিষ্টি কুমড়ায় প্রয়োজনীয় সকল ভিটামিন রয়েছে। যা আমাদের দেহের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করে। এই সবজির আর ও উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করা হল-

হাই প্রেসার কমাতে মিষ্টি কুমড়ার ব্যবহার

যারা হাই প্রেসার জনিত সমস্যায় ভোগেন তারা নিয়মিত মিষ্টি কুমড়া খেতে পারেন।কারন মিষ্টি কুমড়াতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম আছে। আর পটাসিয়াম আমাদের শরীরে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।তাছাড়া মিষ্টি কুমড়াতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে যা হাই প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে থাকে।

আরও পড়ুন  রেড়ি তেল বা ক্যাস্টর অয়েল কয়েকটি ঘরোয়া চিকিৎসা

চোখ ভালো রাখতে মিষ্টি কুমড়ার ব্যবহার

মিষ্টি কুমড়াতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ বা বিটাক্যারোটিন রয়েছে তাই এই সবজিটি চোখের জন্য খুবই ভালো। আমাদের চোখের রেটিনার বিভিন্ন অসুখ প্রতিরোধে মিষ্টি কুমড়া খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।চোখের ছানি পড়া রোধ সহ চোখের রেটিনা কোষ রক্ষা করা বিটা-ক্যারোটিন ও আলফা-ক্যারোটিন মত ক্যারটিনয়েড সমূহের কাজ । এটি শুধু চোখের অসুখ নয়, ভিটামিন এ এর অভাবজনিত অন্যান্য রোগেও মিষ্টি কুমড়া উপকারী।তাই চোখকে সুস্থ ও সচল রাখতে আপনার খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন মিষ্টি কুমড়া যোগ করুন।

রোগ প্রতিরোধে মিষ্টি কুমড়ার ব্যবহার

আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে মিষ্টি কুমড়া একটি অত্যন্ত উপকারি সবজি। প্রতিদিন মিষ্টি কুমড়া খেলে রোগ ব্যাধির সংক্রমণ কমে যায়। মিষ্টি কুমড়ায় বিদ্যমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন ই মানবদেহকে ক্যান্সার ও আলঝেইমার রোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। এবং মিষ্টি কুমড়ার ভিটামিন সি থাকায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি সর্দি-কাশি, ঠাণ্ডা লাগা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

ত্বক উজ্বল করে মিষ্টি কুমড়া

মিষ্টি কুমড়া ত্বক উজ্বল করতেও সাহায্য করে। মিষ্টি কুমড়ায় বিদ্যমান ভিটামিন এ ও সি চুল ও ত্বক ভালো রাখে। নিয়মিত মিষ্টি কুমড়া খেলে উজ্জ্বল চুল ও চকচকে ত্বকের জন্য উপকার। তাছাড়া বয়সের ছাপ প্রতিরোধ করতেও মিষ্টি কুমড়া সাহায্য করে। মিষ্টি কুমড়াতে প্রচুর পরিমাণে জিংক রয়েছে। যা ইমিউনিটি সিস্টেম ভালো রাখে ও অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

মিষ্টি কুমড়া খাদ্য হজমে সাহায্য করে

মিষ্টি কুমড়ায় প্রচুর পরিমাণে আঁশ বা ফাইবার আছো যা সহজেই হজম হয়। মিষ্টি কুমড়া হজমশক্তি বৃদ্ধি ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণ ও পরিপাক নালীর খাদ্য সঠিক উপায়ে সরবরাহে এই সবজির তুলনা হয়না।

ওজন কমাতে মিষ্টি কুমড়ার ব্যবহার

ওজন কমাতে মিষ্টি কুমড়ার অবদান অনেক। ওজন কমানোর জন্য সকল ভিটামিন এখানে রয়েছে।

আরও পড়ুন  রেড়ি তেল বা ক্যাস্টর অয়েল কয়েকটি ঘরোয়া চিকিৎসা

এছাড়া মিষ্টি কুমড়ার নানা উপাদান দেহের লিভার,কিডনি, হার্টকে সুস্থ রাখে, বাতের ব্যথাসহ দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার প্রশমন ঘটায়। মিষ্টি কুমড়ায় বিদ্যমান ফাইবার দেহে কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক রেখে স্ট্রোক এর ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে।মিষ্টি কুমড়া ও কুমড়ার বীজ গর্ভবতী মায়েদের রক্তস্বল্পতা রোধ করে। অকাল প্রসবের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। তাই গর্ভবতী মায়েরা তাদের অনাগত সন্তানের সুস্বাস্থ্যর জন্য নির্দ্বিধায় মিষ্টি কুমড়া খেতে পারেন। এতে বুঝা যায় মিষ্টি কুমড়ার পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা অনেক ।

শাকসবজির মধ্যে মিষ্টি কুমড়া অতি পরিচিত একটি সবজি। কুমড়া স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত উপকারী। তবে কুমড়া ছাড়াও এর ফুলে রয়েছে অনেক গুণ। পুষ্টিগুণের দিক থেকে মিষ্টি কুমড়ার ফুলও কিন্তু কোনও অংশে কম নয়। এতে অল্প পরিমাণে প্রোটিন এবং প্রচুর পরিমাণে খনিজ রয়েছে।

আসুন তাহলে জেনে নিন- মিষ্টি কুমড়ার ফুলের উপকারিতা সম্পর্কে-

১. কুমড়া ফুলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ থাকায় এটি দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

২. কুমড়া ফুলে ক্যালরির পরিমাণ খুব কম এবং ফাইবারের পরিমাণ বেশি থাকাতে হজমে সহায়ক।

৩. কুমড়া ফুলে থাকা ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। সেই সঙ্গে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ কুমড়ার ফুল সর্দি-কাশির সমস্যাও প্রতিরোধ করে। এছাড়া দাঁতের স্বাস্থ্য সুরক্ষা করে।

৪. কুমড়া ফুলে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে যা ডিপ্রেশন কম রাখতে সহায়তা করে।

৫. নিয়মিত কুমড়ার ফুল খেলে হাড় মজবুত হয়। এছাড়া হাড় শক্ত হলে অস্টিওপোরোসিস রোগ হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।

৬. কুমড়া ফুলে প্রচুর ভিটামিন-এ থাকাই চুল ও ত্বককে উজ্জ্বল করে।

৭. কুমড়া ফুলে প্রচুর পরিমাণে এ্যান্টি অক্সিডেন্ট যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে।

৮. কুমড়া ফুল এ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়াতে কোলেস্টেরল কমাতেও সহায়ক।

পরবর্তী আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে ফলো করুন,  উইপোকা ফেসবুক পেইজ

Shafiqul Islam
Shafiqul Islamhttps://www.uipoka.com
মানুষ সব সময়েই ছাত্র, মাস্টার বলে কিছু নেই। এটা যে বুঝবে – সে সব সময়ে সামনে এগিয়ে যাবে
RELATED ARTICLES

Most Popular

Related articles