Sunday, May 29, 2022
Homeইতিহাসবঙ্গ বা বাংলা নামের উৎপত্তি অনুসন্ধানে

বঙ্গ বা বাংলা নামের উৎপত্তি অনুসন্ধানে

বঙ্গ বা বাংলা নামের উৎপত্তির সন্ধানে

‘বাংলা’ শব্দটার সাথে আমাদের পরিচয় মিশে আছে৷ এটা আমাদের জাতীয়তাবাদী পরিচয় বহন করে। রয়েছে অনেক আবেগ। মাতৃভাষার প্রতি সবটুকু ভালোবাসা ঢেলে দিয়ে আমরা ৫২ তে আন্দোলন করেছিলাম৷ কারণ, কেউ আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল। এক পর্যায় আমরা ‘বাংলাদেশ’ নামক একটি দেশ পেলাম। এটা আমাদের আবেগের সবটুকু বাস্তবায়নের ফল।

পাঠক! চলুন জেনে নেওয়া যাক বাংলা নামের উৎপত্তি সম্পর্কে। বাংলা হচ্ছে ‘বঙ্গ’ শব্দের আধুনিক রূপ। ‘বঙ্গ’ শব্দটি ঠিক কীভাবে এই অঞ্চলে প্রসিদ্ধি পায় তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের অনেক মতপার্থক্য রয়েছে। বলা যায়, বিশুদ্ধ সনদে আমাদের কাছে এ বিষয়টা স্পষ্ট নয়। প্রায় সব ঐতিহাসিকদের মতের অবস্থান একই হওয়ার কারণে কোনো নির্দিষ্ট মতকে সামনে রেখে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই আমাদের। তাই প্রত্যেকের মতেরই আমাদের আলোচনা করতে হয়। বক্ষ্যমাণ নিবন্ধে আমরা দেখব ‘বঙ্গ’ নামের উৎপত্তির পেছনে বিভিন্ন ঐতিহাসিকদের বক্তব্য।

আমাদের সমাজে সবচেয়ে প্রচলিত ও শ্রুতিমধুর বর্ণনাটি পাওয়া যায় গোলাম হোসায়ন সালীম প্রণীত ‘রিয়াজউস সালাতিন’ গ্রন্থে। তিনি এখানে এক চমকপ্রদ তথ্য দিয়েছেন। তিনি লিখেন, ইতিহাসবেত্তাদের অনেকে বর্ণনা করেছেন যে, নুহ আ.-এর পুত্র হাম তার পূতপবিত্র পিতার অনুমতি অনুযায়ী (পৃথিবীর) দক্ষিণ দিকে মনুষ্য বসতির জন্য মনস্থ করেন। সেই উদ্দেশ্য কার্যকরী করার জন্য তিনি তাঁর পুত্রদের দিকে দিকে মানুষের বসতি স্থাপনের জন্য প্রেরণ করেন। তাঁর (হামের) প্রথম পুত্রের নাম হিন্দ, দ্বিতীয়ের নাম সিন্ধ, তৃতীয়ের নাম হাবাশ, চতুর্থের নাম জানায, পঞ্চমের নাম বার্বার এবং ষষ্ঠের নাম নিউবাহ। যেসকল অঞ্চলে তারা উপনিবেশ স্থাপন করেন সেগুলোর নাম তাদের নামানুসারে রাখা হয়েছে। জ্যেষ্ঠ সন্তান হিন্দ হিন্দুস্তানে আসার দরুন এই অঞ্চলের নাম তার নামানুসারে রাখা হয়েছে। সিন্ধ জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার সঙ্গে এসে সিন্ধু দেশে বসতি করায় এই অঞ্চলের নাম তাঁরই নামানুসারে সিন্ধু রাখা হয়।… হিন্দের দ্বিতীয় পুত্র বং (বঙ্গ) এর সন্তানরা বাংলায় উপনিবেশ স্থাপন করেন। আদিতে বাংলার নাম ছিল বং। [১]

এই বর্ণনাটি আমাদের মাঝে প্রচলিত থাকলেও এটা ত্রুটিপূর্ণ। প্রথমত, উক্ত গ্রন্থাকার বিভিন্ন ইতিহাসবেত্তাদের কথা বললেও তিনি কোনো প্রাচীন গ্রন্থের উদ্ধৃতি দেননি যা থেকে আমরা যাচাই কর‍তে পারি। এর ফলে তার বক্তব্য শক্তিশালী হত। দ্বিতীয়ত, ‘হিন্দ’ শব্দের প্রসিদ্ধির ইতিহাস দেখলে তার বক্তব্য অনেকটাই ম্লান হয়ে যায়। নিম্নে কয়েকটি বর্ণনা উল্লেখ করা হলো,

আরও পড়ুন  চেচনিয়া মুসলিম গণহত্যা ও নির্যাতনের নির্মম ইতিহাস

হিন্দুস্তানের প্রাচীন ধর্মীয় ইতিহাস ও সাহিত্যে ‘হিন্দুত্ব’ বা হিন্দুধর্ম-এর সমার্থবোধক কোন শব্দ পাওয়া যায় না। সেখানে ‘সনাতন ধর্ম’ ও ‘বৈদিক ধর্ম’ শব্দগুলোর ব্যবহার পাওয়া যায়। বেদ ও উপনিষদসমূহে বর্ণিত সেই ‘সনাতন ধর্ম’ এবং ‘বৈদিক ধর্ম’-এর স্থলে আধুনিক যুগে এই ‘হিন্দু ধর্ম’ শব্দটিই স্বীকৃত ও প্রসিদ্ধ হয়ে গেছে। তবে হিন্দু পন্ডিত ও চিন্তাবিদদের আজও এটাই বিশ্বাস যে, এই ধর্মকে ‘সনাতন’ ও ‘বৈদিক’ ধর্ম বলাই যথোপযুক্ত। কারণ, এগুলোই এর আসল নাম এবং প্রাচীন হিন্দুস্তানী ধর্মীয় বই-পুস্তকে এই নামগুলোরই ব্যবহার পাওয়া যায়। যেখানে ‘হিন্দু’ শব্দটি একটি নতুন শব্দ। ‘শব্দকল্পদ্রুম’ ছাড়া কোন সংস্কৃত অভিধানেই ‘হিন্দু’ শব্দটি পাওয়া যায় না। আর ‘শব্দকল্পদ্রুম’-এর ভিত্তি হলো ‘মেরুতন্ত্র’, যা প্রাচীন হিসাবে সাব্যস্ত নয়।

তবে হ্যাঁ, ফার্সী ভাষায় ‘হিন্দু’ শব্দটি পাওয়া যায়, আর তা থেকে উৎপন্ন হয়েছে নানা শব্দ যেমন- হিন্দুস্তান, হান্দাসা, হিন্দি ও হিন্দু।[২]

মূলত বাস্তবতা হলো যে, হিন্দুস্তানী মানুষ এই শব্দ জানতো না। সর্বপ্রথম এর ব্যবহার করেছিল প্রাচীন ইরানী ও আরবরা। তদুপরি শুধু ভৌগলিক কিংবা একটি নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠী ও জনবসতির পরিচয়বাহী নাম হিসাবে। [৩]

ড. রাঁধাকমল মুখার্জী (১৮৮৯-১৯৬৮)এর মতে, ভারতের বাইরে এই শব্দের ব্যবহার বহু প্রাচীন আভেস্তা ও খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৫২২ থেকে ৪৮৬-এর মধ্যে রচিত পুস্তকাদিতে পাওয়া যায়। তিনি আরও বলেন, ‘হিন্দু’ শব্দটি বিদেশী শব্দ। সংস্কৃত ও পালিতে কোথাও এর ব্যবহার পাওয়া যায় না। এই শব্দের যে ইতিহাস পাওয়া যায়, তাতে একে কোনো ধর্মের নাম বা পরিচয়বাহী শব্দ হিসাবে মানা যায় না। বরং এর আসল অর্থ হতে পারে হিন্দুস্তানের যেকোন বাসিন্দা। ভারতবর্ষকে ‘হিন্দ’ নাম দিয়েছে বিদেশীরা। এটি বেশ কয়েকটি দিক থেকে প্রমাণিত। যেমন- সপ্তম শতকে ইৎসিঙ নামীয় এক চাইনিজ পর্যটক ভারতবর্ষে এসেছিলেন। তিনি লিখেছেন, মধ্য এশিয়ার মানুষ ভারতবর্ষকে ‘হিন্দু’ বলে থাকে। যদিও এখানকার স্থানীয় মানুষ ভারতবর্ষকে আর্যদেশ বলে থাকে।[৪]

এরকম আরও বিভিন্ন শক্তিশালী বর্ণনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, হিন্দ শব্দটি এই অঞ্চলের মানুষের বানানো না। বাহির থেকে আগর। যদি হযরত নুহ আ.-এর পৌত্র হিন্দ বা সিন্ধের নামানুসারে এই অঞ্চলের নাম হিন্দ হত তাহলে ন্যূনতম এক খানা দলিল থাকত। প্রাচীন কোনো শিলালিপি কিম্বা দলিলদস্তাবেজে ইঙ্গিত পাওয়া যেত৷ যেখানে ব্যক্তির নামানুসারে হিন্দুস্তান নামকরণ হয়েছে কিনা সেটাই সন্দেহযুক্ত, সেখানে তার পুত্রের নামানুসারে বঙ্গের নামকরণ বহুত দূর কি বাত।

আরও পড়ুন  যুদ্ধ না শান্তি চাই

এমতাবস্থায় পাঠকের মনে ‘হিন্দুস্তান’ শব্দের ব্যাপারে প্রশ্ন জাগতে পারে। এ ব্যাপারে হিন্দী ভাষার প্রসিদ্ধ কবি তাঁর ‘সংস্কৃতি কে চার আধ্যায়’ গ্রন্থে লিখেছেন, আসল কথা হলো এই যে, মধ্য এশিয়া ও পাশ্চাত্যের দেশগুলোর লোকেরা ভারতে যাতায়াত করত পশ্চিমদিক দিয়ে। সিন্ধু নদ ভারতের পশ্চিম সীমান্তে অবস্থিত। ফলে এই পথে যাতায়াতকারীরা সিন্ধু নদ দ্বারাই এই দেশের পরিচয় দিত। তাদের মধ্যে ইরান ও তার আশপাশের লোকেরা ‘সা’-এর সঠিক উচ্চারণ না করতে পারায় ‘সিন্ধু’-কে ‘হিন্দু’ বলা শুরু করে। আর পশ্চিমারা ‘সা’ ও ‘দা’-এর সঠিক উচ্চারণ না করতে পারায় ‘হিন্দু’-কে ‘ইন্ডু’ (Indo) বলতো। এভাবেই ভারতের নাম ‘হিন্দু>হিন্দুস্তান’ ও ‘ইন্ডু>ইন্ডিয়া’ হিসাবে প্রচলিত হয়ে যায়।[৫]

স্বামী অনন্যানন্দ লিখেছেন, ‘হিন্দু’ শব্দটি ‘সিন্ধু’রই পরিবর্তিত রূপ। সিন্ধু একটি নদের নাম। আগেকার সময়ে ফার্সীভাষী লোকেরা অর্থাৎ ইরানীরা সিন্ধু নদের নিকটবর্তী লোকদের ও দেশগুলোকে ‘হিন্দু’ বলতো। এর কারণ হলো, তাদের সিন্ধুকে সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে না পারা। ফলে ‘সিন্ধু’ই ‘হিন্দু’ হয়ে যায় এবং এভাবেই তাদের ধর্মকে ‘হিন্দু’ বলা শুরু হয়। [৬]

এ. কে. এম. শাহনাওয়াজ লিখেন, পারস্য সম্রাট দারিয়ুস (Darius-1) ৫১৭-৫১৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে পাঞ্জাব অধিকারের মধ্যে দিয়ে পারস্যের সাথে ভারতবর্ষের সংযোগ গড়ে তুলেন। সে কারণে ভারতবর্ষের মৌলিক কিছু নামকরণের কৃতিত্বও ছিল পার্সীয়দের। তারা পাঞ্জাবের সিন্ধু নদের উচ্চারণ করত ‘হিন্দু’(Hindu) অথবা ‘ইন্দু’(Indu); একারণে পার্সীয়রা ভারতবর্ষের জনগণকে ‘হিন্দু’ বলে ডাকত।[৭]

এ রকম আরও বেশ কিছু বর্ণনা বলা যায় ‘হিন্দ’ শব্দটা ‘সিন্ধ’ থেকেই এসেছে।‘সিন্ধ’ হযরত নুহ আ.-এর পৌত্র কিনা সেটা জানার জন্য আরও তথ্য প্রমাণ প্রয়োজন। তবে বিভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী ‘হিন্দ’ নামক কোনো ব্যক্তির অস্তিত্ব পরিষ্কার না হলেও এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে, বঙ্গ নামে কোনো ব্যক্তি ছিল না। ঋগবেদের ঐতরেয় অরণ্যকে বঙ্গ নামের উল্লেখ আছে। যা এখন পর্যন্ত ‘বঙ্গ’ নামের প্রাচীন উৎস বলে ধরা হয়। ধারণা করা হয় খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ বছর পূর্বে এটা লিপিবদ্ধ করা হয়। এতে উল্লেখ রয়েছে ‘বয়াংসি বঙ্গাবগাধাশ্চেরপাদ’। অর্থাৎ বঙ্গের লোকজন বয়াংসি বা পক্ষীবিশেষ, পাখির মত। এরা পাখির মত কিচিরমিচির করে কথা বলে। আর্থার কিথ এটার ব্যাখ্যায় বলেন, “তিন শ্রেণির মানুষ সীমালঙ্ঘনকারী। যারা পাখির মত: বঙ্গ, বগাধ, চেরাপাদ। এই ‘বঙ্গ’ আসলে বর্তমান বাংলাদেশের অংশ। ‘বগধ’ হচ্ছে প্রাচীন ভারতের ‘মগধ’ জনপদ এবং ‘চেরাপাদে’র সাথে দক্ষিণ ভারতের চেরাস জাতির যথেষ্ট মিল আছে।

আরও পড়ুন  সুলতান জালালুউদ্দিন মুহম্মদ শাহ

এই ব্যাখ্যার সম্পূরক বক্তব্য পাওয়া যায় মাহবুবুল আলমের লেখায়। তিনি লিখেন, ‘বঙ্গ শব্দের উৎপত্তি সম্পর্কে মনে হয়, যে অঞ্চলে বং গোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করত, তারাই এ নামে পরিচিত। সংস্কৃত বঙ্গ শব্দ বং বা বঙ গোষ্ঠীর নাম। বং গোষ্ঠীভূক্ত মানুষের বাসভূমি ছিল ভাগীরথী নদীর পূর্বতীর থেকে আসামের পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত।’[৮]

এ সমস্ত বর্ণনা দেখলে বলা যায়, প্রাচীন বং জাতিগোষ্ঠী ও অঞ্চলের নাম কোনো ব্যক্তির নাম থেকে এসেছে। তবে এখানেই শেষ নয়। ঐতিহাসিকদের অনেকে মনে করেন, বঙ্গ শব্দটির তিব্বতি ভাষা থেকে আগত। ভোটাচীন বা তিব্বতি ভাষায় Bans-Po বা Bons (বঙস) শব্দের অর্থ হলো আর্দ্র বা স্যাঁতস্যাঁতে স্থান বা জলাভূমি। বনজঙ্গলে আচ্ছন্ন নিম্ন পলিময় আর্দ্র এই অঞ্চলকে বঙস বলা হতো। পরবর্তী সময়ে বঙস থেকে বঙ্গ শব্দটি গৃহীত হয়েছে। আবার ঐতিহাসিকদের মধ্যে কেউ কেউ দাবী করেন, ‘বঙ্গ’ নামটির উৎপত্তি সাঁওতাল দেবতা ‘বাহা বঙ্গা’ থেকে এসেছে।

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বোঝা গেল ‘বঙ্গ’ নামের উৎপত্তি নিশ্চিত ভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। সকলের কাছেই নিজ নিজ মত যৌক্তিক। যাহোক, লেখাটা আপনার কাছে কেমন লাগল সেটা কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না কিন্তু।

সূত্র:
১. রিয়াজ-উস সালাতীন, গোলাম হোসায়ন সালীম, পৃষ্ঠা: ১৬-১৭
২.স্বামী আনন্যানন্দ, হিন্দু ধার্ম কা সাওয়ারভুম তত্তব, কলকাতা : আধ্যিয়াত আশ্রম, ১৯৯৭ইং, পৃষ্ঠা: ১
৩.তারিখে তাবারী, ৩য় খন্ড, পৃষ্ঠা: ১৬৫; তাবাক্বাত ইবনে সাদ, ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা: ৩৩৯; সীরাত ইবনে হিশাম, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা:৫৯৩
৪. সাংস্কৃতি কে চার অধ্যায়, পৃষ্ঠা: ৩৫
৫. সাংস্কৃতি কে চার আধ্যায়, পৃষ্ঠা: ২৫-২৬
৬. হিন্দু ধর্ম কা সাওয়ারভূম তত্ত্ব, পৃষ্ঠা: ৩
৭. বিশ্বসভ্যতা, এ.কে.এম. শাহনাওয়াজ, পৃষ্ঠা: ১০৯
৮. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, পৃষ্ঠা: ২২

সহায়ক সূত্র:
১. বাংলাদেশ ও ইসলাম আত্মপরিচয়ের ডিসকোর্স, মুসা আল হাফিজ
২. https://nreearch.com/ঐতরেয়-আরণ্যক/#:~:text=ঐতরেয়%20আরণ্যক-%20ঋগ্বেদ।,আগে%20তা%20লিপিবদ্ধ%20করা%20হয়।
৩. https://i-onlinemedia.net/12880

Shafiqul Islam
Shafiqul Islamhttps://www.uipoka.com
মানুষ সব সময়েই ছাত্র, মাস্টার বলে কিছু নেই। এটা যে বুঝবে – সে সব সময়ে সামনে এগিয়ে যাবে
RELATED ARTICLES

Most Popular

Related articles